আফিফেই কপাল পুড়লো আশরাফুলদের

ছবি:

ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের ২৯তম ম্যাচে আজ কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের মুখোমুখি হয়েছিলো শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। ঢাকার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে কলাবাগানকে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের চতুর্থ জয় তুলে নিয়েছে শুভাগত হোমের দলটি।
এদিন সকাল ৯টায় টসে জিতে শুরুতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কলাবাগানের অধিনায়ক মুক্তার আলি। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে আকবর-উর-রেহমান এবং মাহমুদুল হাসানের জোড়া অর্ধশতকে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৩২ রান সংগ্রহ করে কলাবাগান।
জবাবে তৌহিদ হৃদয় এবং আফিফ হোসেনের জোড়া অর্ধশতকে ৪৫ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় শাইনপুকুর। তবে জবাব দিতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি শাইনপুকুরের। স্কোরবোর্ডে কোনো রান তোলার আগেই ওপেনার সাদ্দাম হোসেনকে ফিরিয়ে দিয়ে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছিলেন শাহাদাত হোসেন।
এরপর দলীয় ৪৫ রানের মাথায় ভারতীয় রিক্রুট উদয় কাউলকে (৩৪) বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান স্পিনার সঞ্জিত সাহা। পরবর্তীতে সাদমান ইসলাম এবং তৌহিদ হৃদয়ের ৬০ রানের জুটিতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় শাইনপুকুর।
আবুল হাসানের বলে মুক্তার আলির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৩৭ রান করেন সাদমান। সাদমানের ফিরে যাওয়ার পর নতুন ক্রিজে আসা আফিফ হোসেনের সাথে ৮৪ রানের জুটি গড়েন হৃদয়। আর এই জুটি গড়ার পথে আফিফ এবং হৃদয় দুইজনই তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি।
দলীয় ১৮৯ রানের মাথায় হৃদয়কে নিজের প্রথম শিকারে পরিণত করে মাহমুদুল হাসান এই জুটিটি ভেঙ্গে দিলে ব্যাটিংয়ে নামেন অধিনায়ক শুভাগত হোম। আফিফের সাথে তাঁর ৪৩ রানের জুটিটিই শেষ পর্যন্ত বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে সাহায্য করে শাইনপুকুরকে। আফিফ ৬৭ এবং শুভাগত ৩০ রানে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন।
কলাবাগানের পক্ষে আবুল হাসান, শাহাদাত হোসেন, সঞ্জিত সাহা এবং মাহমুদুল হাসান প্রত্যেকে একটি করে উইকেট শিকার করেছেন।

কলাবাগান ক্রীড়া চক্র ইনিংস-
এদিন ম্যাচের শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপদেই পড়েছিলো মুক্তার আলির কলাবাগান দলটি। মুক্তারের ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্তকে শুরুতেই ভুল প্রমাণিত করে দিয়েছিলেন শাইনপুকুরের ডান হাতি মিডিয়াম পেসার সুজন হাওলাদার। মাত্র ৫ রানের মাথায় দুই ওপেনার জসিমউদ্দিন এবং মুনিম শাহরিয়ারকে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে কলাবাগানকে বিপদের মুখে ফেলে দেন তিনি।
এরপর সেই পরিস্থিতি থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন আকবর-উর রেহমান এবং মোহাম্মদ আশরাফুল। কিন্তু গাজি গ্রুপের বিপক্ষে গত ম্যাচে মাত্র ৮ রান করা আশরাফুল আজকেও ব্যর্থতার পরিচয় দিলেন।
রানের খাতা খোলার আগেই মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়ে ফেরেন তিনি। আশরাফুল ফিরলেও আকবরের সাথে ব্যাটিংয়ে যোগ দেন তাইবুর রহমান। আকবর ও তাইবুর জুটি থেকে আসে ৪৩ রান।
৬৫ রানের সময় তাইবুর (২২) শুভাগত হোমের বলে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হয়ে ফিরে গেলে আবারও বিপদে পরে কলাবাগান। তবে সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আকবর-উর রেহমান খেলেন ৯১ বলে ৭১ রানের একটি অনবদ্য ইনিংস। কিন্তু ১২৯ রানের সময় আকবরকে আউট করে সাজঘরে ফেরান নাইম ইসলাম।
এরপর দ্রুত ফিরে যেতে হয় রাহাতুল ফেরদৌস এবং অধিনায়ক মুক্তার আলিকেও। তবে এক প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়লেও উইকেট আঁকড়ে পড়েছিলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান মাহমুদুল হাসান। শুভাগত হোমের তৃতীয় শিকার হওয়ার আগে খেলেছেন ৫২ রানের দারুণ একটি ইনিংস।
শেষের দিকে আবুল হাসানও খেলেছেন ৪৭ রানের আরেকটি দারুণ ইনিংস। আর এর ফলে শুরুর দিকে দ্রুত উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ২৩২ রানের মাঝারি স্কোর নিয়ে মাঠ ছাড়তে সক্ষম হয়েছে কলাবাগান।
শাইনপুকুরের পক্ষে ৩৪ রানে ৩ উইকেট শিকার করেছেন অধিনায়ক শুভাগত হোম। এছাড়াও ২টি করে উইকেট নিয়েছেন সুজন হাওলাদার এবং নাইম ইসলাম জুনিয়র। আর ১টি উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।
কলাবাগান ক্রীড়া চক্র দল-
জসিমউদ্দিন, মুনিম শাহরিয়ার, মোহাম্মদ আশরাফুল, আকবর-উর রেহমান, রাহাতুল ফেরদৌস, মুক্তার আলি (অধিনায়ক), সঞ্জিত সাহা, মাহমুদুল হাসান, আবুল হাসান, শাহাদাত হোসেন, তাইবুর রহমান।
শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব-
আফিফ হোসেন, মিনহাজ খান, তৌহিদ হৃদয়, শুভাগত হোম (অধিনায়ক), সাব্বির হোসেন, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, রায়হান উদ্দিন, সুজন হাওলাদার, নাইম ইসলাম জুনিয়র, সাদমান ইসলাম, উদয় কাউল।