তামিমদের হারিয়ে মুলতানের শুভ সূচনা

ছবি:

নতুন দল মুলতান সুলতান্স জয় দিয়ে আসর শুরু করেছে। গতবারের চ্যাম্পিয়নদের সাত উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে মুলতান। পেশোয়ারের দেয়া ১৫২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সাঙ্গাকারার ফিফটি ও মালিকের চল্লিশ ঊর্ধ্ব ইনিংসে জয় পেয়েছে দলটি।
পেশোয়ার জালমির দেয়া মাঝারি পুঁজি তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং পাওয়ারপ্লেতে ওপেনার আহমেদ শেহজাদকে হারিয়েছে মুলতান। ফাস্ট বোলার ওহাব রিয়াজের করা প্রথম ওভারেই শুন্য রানে ফিরতে হয় তাকে। তবে সেখান থেকে অভিজ্ঞ সাঙ্গাকারার ব্যাটে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয় মুলতান।
ব্যাটিং পাওয়ারপ্লে আর কোন বিপদ ঘটতে দেন নি তিনি। শোয়েব মাকসুদের সাথে জুটি গড়ে ইনিংসের অষ্টম ওভারে দলের স্কোর অর্ধশত ছাড়া করেন সাঙ্গাকারা। জর্ডানের বোলিংয়ে মাকসুদ বিদায় নিলেও খেই হারায়নি মুলতান। সাঙ্গাকারা ও মালিক জুটি সহজ জয়ের পথ দেখায়।
১২০ স্ট্রাইক রেটে ঝুঁকিহীন ব্যাটিং করে ফিফটি তুলে নেন সাঙ্গাকারা। দলের স্কোর ১৩তম ওভারেই একশো ছাড়াতে মুখ্য ভূমিকা রাখেন তিনি। ১৫তম ওভারে ৫১ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরলেও কাইরন পোলার্ড ও মালিক কোন অঘটন ঘটতে দেয় নি।
ম্যাচ শেষ ওভারে গেলেও পাঁচ বল ও সাত উইকেট বাকি থাকতেই জিতেছে মুলতান। মালিকের ব্যাট থেকে অপরাজিত ৪২ রানের গুরুত্তপুর ইনিংস। ১৩ বলে ২১ রান যোগ করে অবদান রেখেছেন কাইরন পোলার্ড। পেশোয়ারের ওহাব রিয়াদ ও ক্রিস জর্ডান উইকেটের দেখা পেয়েছেন।
এর আগে ??সে হেরে শুরুতে ব্যাট করে মোহাম্মদ হাফিজের ফিফটি ও শেষের দিকে অধিনায়ক স্যামির ব্যাটিং তাণ্ডবে লড়াই করার মত পুঁজি পায় গতবারের চ্যাম্পিয়নরা।
পেশোয়ারের দুই ওপেনার কামরান আকমল ও তামিম ইকবাল পেশোয়ারের হয়ে ইনিংসের সূচনা করেন। শুরু থেকেই দুই ওপেনার বেশ সতর্ক ব্যাটিং করার চেস্টা করেন। তবে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে উইকেট হারাতে হয়ে পেশোয়ারকে।

মুলতানের বাঁহাতি ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ ইরফানের বলে কোন রান যোগ না করেই সাজঘরে ফিরতে হয় অভিজ্ঞ কামরান আকমলকে। চার বল খেলে দলীয় ৪ রানের সময় আউট হন তিনি। আকমল বিদায় নিলেও তামিম খেলছিলেন স্বাচ্ছন্দ্যে।
ইনিংসের শুরুতে বাউন্ডারির খুঁজে নিয়ে বড় স্কোরের আভাস দিচ্ছিলেন তিনি। তবে চতুর্থ ওভারে ফের ইরফানে থামতে হয় তামিমকে। অফ স্ট্যাম্পের বাইরে শাফল করে পুল শট খেলতে গিয়ে জুনায়েদ খানের হাতে ক্যাচ আউট হন এই টাইগার ওপেনার।
১১ বল খেলা তামিম আউট হওয়ার আগে ১১ রান যোগ করেন। ব্যাটিং পাওয়ারপ্লেতেই দুই ওপেনারের বিদায়ে রান থমকে যায় পেশোয়ারের। তবে হাফিজ ও ডোয়াইন স্মিথ উইকেটে কিছুটা সময় নিয়ে সহজাত ব্যাটিংয়ের ইঙ্গিত দেন। বিশেষ করে স্মিথ বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে থাকেন।
তার ব্যাটে ভর করেই ইনিংসের নবম ওভারে ফিফটি পূর্ণ করে পেশোয়ার। জদিওন ইনিংস লম্বা করতে ব্যর্থ হন এই উইন্ডিজ ব্যাটসম্যান। ২৩ বলে ২৪ রান যোগ করে আউট হন তিনি। লেগ স্পিনার তাহিরের বলে ফিরতে হয় স্মিথকে।
সেখান থেকে অভিজ্ঞ হাফিজের ব্যাটে লড়ে যায় দলটি। হারিস সোহেলকে নিয়ে ইনিংসের ১৫তম ওভারে দলীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হাফিজ। শেষ পাঁচ ওভারে হাল খুলে খেলার পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছিলেন হাফিজ।
কিন্তু ১৬তম ওভারে সঙ্গী সোহেল ১৪ রান যোগ করে ভিলজয়েনের বলে ফিরে গেলে ফের চাপে পড়ে পেশোয়ার। অসময়ে জুটি ভেঙ্গে মুলতানকে ম্যাচে আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ করে দেয়া দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার ভিলজয়েন।
ওয়ানডে মেজাজে খেলে ফিফটি পূর্ণ করা হাফিজ ৫২ বলে ৫৮ রান যোগ করে জুনায়েদের ফাঁদে পড়েন। তবে পেশোয়ারের মান বাঁচান অধিনায়ক স্যামি। ডেথ ওভারে মুলতানের দুই পেসার জুনায়েদ ও তানবিরকে বেধড়ক পিটিয়ে রান বাড়িয়ে নেন তিনি।
মূলত স্যামির ঝড়ো ব্যাটিং পেশোয়ারকে ২০ ওভার শেষে ১৫১ রান তুলতে সক্ষম হয়। মাত্র ১১ বল খেলে ২৯ রান যোগ করেছেন পেশোয়ার কাপ্তান ড্যারেন স্যামি। মুলতানের হয়ে প্রায় সব বোলার উইকেটের দেখা পেয়েছেন । তবে চার ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে দুই উইকেট নেয়া মোহাম্মদ ইরফান ছিলেন দিনের সেরা বোলার।
পেশোয়ারঃ
তামিম ইকবাল, কামরান আকমল, ড্যারেন স্যামি, ডোয়াইন স্মিথ, মোহাম্মদ হাফিজ, হারিস সোহেল, হাম্মাদ আজম, ক্রিস জর্ডান, ওয়হাব রিয়াজ, ইবতিসাম শেইখ, মোহাম্মদ আজগর
মুলতানঃ
কুমার সাঙ্গাকারা, আহমেদ শেহজাদ, শোয়েব মালিক, কাইরন পোলার্ড, শোয়েব মাকসুদ, সাইফ বাদার, শোহেল তানবির, হারদস ভিলজয়েন, মোহাম্মদ ইরফান, জুনায়েদ খান, ইমরান তাহির