মোশাররফের ঘূর্ণিতে বিপর্যস্ত লিটনরা

ছবি:

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ২৬ তম ম্যাচে আজ প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবের মুখোমুখি হয়েছিলো নাইম ইসলামের লিজেন্ডস অফ রুপগঞ্জ। আর এই ম্যাচে দোলেশ্বরকে ৫৫ রানে হারিয়েছে নাইম ইসলামের দল।
আজ বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টায় মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে খেলতে নামে দুই দল। এরপর শুরুতে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে আব্দুল মজিদ, নাইম ইসলাম এবং মুশফিকুর রহিমের হাফসেঞ্চুরিতে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৭২ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড়া করায় রুপগঞ্জ।
এরপর ২৭৩ রানের বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়তে হয় প্রাইম দোলেশ্বরকে। মাত্র ৭ রানের মাথায় উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাসকে নিজের বলে ফিরতি ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে পাঠান মোহাম্মদ শরীফ।
শরীফের পর রুপগঞ্জের ব্যাটিং লাইন আপে ধ্বস নামানোর কাজটি নিজের কাঁধে তুলে নেন স্পিনার মোশাররফ হোসেন। একে একে ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেন এবং মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মার্শাল আইয়ুবের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট দুইটি তুলে নেন তিনি। ফলে শত রানের আগেই ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে রুপগঞ্জ।
দলের পক্ষে ফরহাদ রেজা ২৫, জোয়েব খান ২৪ এবং শরীফুল্লাহ ৪১ রান করলেও জয় এনে দিতে পারেননি। এছাড়াও শেষের দিকে আরাফাত সানি ২৮ এবং মোহাম্মদ আরাফাত ১৬ রান করেন। কিন্তু এরপরেও ১৩ বল আগে ২১৭ রানে অলআউট হয়ে গেছে দোলেশ্বর। ফলে ৫৫ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রূপগঞ্জ।
মূলত দোলেশ্বরকে এর কম রানে গুঁটিয়ে দেয়ার পেছনে সবথেকে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছেন স্পিনার মোশাররফ। ১০ ওভারে মাত্র ৪০ রানে ৪ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। ৪৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন আসিফ হাসান।
রুপগঞ্জের ইনিংসঃ-

এর আগে দিনের শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ওপেনার আব্দুল মজিদ এবং নাইম ইসলামের মোহাম্মদ নাইম উদ্বোধনী জুটি গড়েছিলেন ৫২ রানের। নাইমকে ফরহাদ হোসেনের হাতে ক্যাচ বানিয়ে দোলেশ্বরের পক্ষে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন মোহাম্মদ আরাফাত।
পরবর্তীতে মজিদের সাথে ব্যাটিংয়ে যোগ দেন দলের অধিনায়ক নাইম ইসলাম। নাইম ও মজিদের ৭৮ রানের জুটিতে দুর্দান্তভাবে এগিয়ে যাচ্ছিলো রুপগঞ্জ।
তবে দলীয় ১৩০ রানের মাথায় মজিদকে মানিক খানের হাতে ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরত পাঠান আরাফাত সানি। মজিদ ফিরে গেলেও ব্যাট হাতে রুখে দাঁড়িয়ে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন রুপগঞ্জ অধিনায়ক নাইম। নতুন ক্রিজে আসা উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমকে সাথে নিয়ে দলের স্কোর বাড়াতে থাকেন অধিনায়ক।
এই দুই ব্যাটসম্যান মিলে ৯২ রানের জুটি গড়ে দলকে দুইশত রানের কোটাও পার করান। শেষ পর্যন্ত এই জুটি ভাঙ্গতে সক্ষম হয়েছেন দোলেশ্বর অধিনায়ক ফরহাদ রেজা। ৭৮ রান করা নাইমকে আরাফাত সানির হাতে ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়েছেন তিনি।
তবে নাইম ফিরে গেলেও দারুণ ব্যাটিং করে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন টাইগারদের মিস্টার ডিপেন্ডেবল খ্যাত ব্যাটসম্যান মুশফিক। যদিও এরপর বেশীক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। ৬৫ রান করে ফরহাদ রেজার দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন।
মুশফিক ফিরলে নাজমুল হোসেন মিলনের ২১ এবং শেষের দিকে পারভেজ রসুলের ৮ রানে ভর করে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়তে সক্ষম হয় রুপগঞ্জ। প্রাইম দোলেশ্বরের পক্ষে সবথেকে সফল বোলার ছিলেন স্পিনার আরাফাত সানি।
৯ ওভার বোলিং করে ৪০ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন তিনি। ১০ ওভারে ৭৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন অধিনায়ক ফরহাদ রেজা। আর ১টি উইকেট পেয়েছেন মোহাম্মদ আরাফাত।
লিজেন্ডস অফ রুপগঞ্জ-
আব্দুল মজিদ, মোহাম্মদ নাইম, নাইম ইসলাম (অধিনায়ক), মোহাম্মদ শরীফ, মোশাররফ হোসেন, মুশফিকুর রহিম, তুষার ইমরান, মোহাম্মদ শহীদ, আসিফ হাসান, নাজমুল হোসেন মিলন, পারভেজ রসুল।
প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব-
ইমতিয়াজ হোসেন, লিটন কুমার দাস, ফজলে মাহমুদ, মার্শাল আইয়ুব, জোয়েব খান, ফরহাদ হোসেন, আরাফাত সানি, শরীফুল্লাহ, ফরহাদ রেজা (অধিনায়ক), মানিক খান, মোহাম্মদ আরাফাত, রায়ান টেন ডেসকাট।