ঘর-বাড়ী ছাড়তে না চাওয়াই যুবাদের সাফল্যের রহস্য

ছবি: ছবিঃ সংগৃহীত

|| স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ||
বিশ্বকাপ শুরুর আগে দুটো অফিশিয়াল প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে জোহানেসবার্গে যেতে হয়েছিল বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দলকে। ওই দুটো ম্যাচের পর মূল আসরের গ্রুপ পর্বের জন্য পচেফস্ট্রুমে ঘাঁটি গাড়ে আকবর আলীর দল।
এরপর তরুণ ক্রিকেটাররা এই ছোট্ট শহরকে একরকম ঘর-বাড়ীই বানিয়ে ফেলেছে যেন! জোহানেসবার্গ থেকে ফেরার পর তো আজ অব্দি ওই শহরেই আছে। গ্রুপ পর্বের পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালও খেলেছে সেখানে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালও হয়েছে সেখানকার সেনউইস পার্কেই।

ভারতের বিপক্ষে রোববারের ফাইনালও এই পচেফস্ট্রুমে। যেখানে অন্যান্য দলকে ঘুরে-ফিরে বিভিন্ন শহরে খেলতে হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের একই শহরে থেকে প্রায় সব ম্যাচ খেলার রহস্য লুকিয়ে তরুণ ক্রিকেটারদের সাফল্যেই।
সূচীটা আকবরদের জন্য এমন ছিল যে টানা জিততে থাকলে অন্য কোথাও যেতে হবে না। পচেফস্ট্রুমের প্রেমে পড়ে যাওয়া যুবারা তাই পণ করেন যে এই শহরে কিছুতেই হারবেন না। নিজেদের সেই প্রতিজ্ঞায় সেমিফাইনাল পর্যন্ত অটল থেকে তারা এখন শিরোপার দুয়ারেও।
আকবর এবং তার দলের ক্রিকেটারদের যে কোনো মূল্যে পচেফস্ট্রুমে থেকে যেতে চাওয়ার অন্যতম কারণ এই শহর থেকে ওই শহরে যাওয়া, হোটেল বদলানো কিংবা যাতায়াতের ঝক্কি এড়ানো। এক শহরে থেকেই অভিযানে চূড়ান্ত সাফল্যের কাছাকাছি চলে যাওয়া দলের ক্রিকেটারদের পচেফস্ট্রুম ছাড়তে না চাওয়ার মরিয়া মনোভাবে কথা জানিয়েছেন ফিল্ডিং কোচ ফয়সাল হোসেন,
‘পচেফস্ট্রুম আমাদের ঘর-বাড়ীই হয়ে উঠেছে। দেশ থেকে এখানেই প্রথম আসি আমরা। এরপর দুটো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে যাই জোহানেসবার্গে। সেখান থেকে আবার এই শহরে। শেষপর্যন্ত এখানেই থাকছি। ছেলেদেরও খুব ভালো লেগে গেছে এই শহরটি। আমরা এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস ভিলেজে উঠেছি। রুমের বারান্দা থেকেই মাঠ (সেনউইস পার্ক) দেখা যায়। ছেলেরা চাইছিল আমাদের যেন শহর ও হোটেল বদলানোর ঝামেলায় যেতে না হয়। ওদেরকে তাই এভাবেও মোটিভেট করা গিয়েছে যে, ‘কি রে, তোরা অন্য শহরে যাবি?’ ওরা বলেছে, ‘না’। আবার জিজ্ঞেস করেছি, ‘তাহলে কী করতে হবে?’ ওরা বলেছে, ‘স্যার, জিতেই যেতে হবে শুধু।’ ওরা প্রতিজ্ঞা করেছিল যে এখানে হারবেই না। এখন পর্যন্ত আমরা হারিওনি। বলতে পারেন, আমাদের সাফল্যের এটিও একটি রহস্য।'