মুস্তাফিজের দ্বিতীয় শিকার

ছবি: ছবি- সংগৃহীত

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||
সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ
বাংলাদেশঃ ২৩৮/৮ (৫০ ওভার) (মুশফিক- ৯৮*, মিরাজ- ৪৩; প্রদীপ-২/৫৩, ধনঞ্জয়া ২/৩৯)
শ্রীলঙ্কাঃ ১৪৬/৩ (২৫ ওভার) (মেন্ডিস-৭*, ম্যাথুস- ০* মিরাজ-১/৩৯, মুস্তাফিজ- ২/৩৯)
মুস্তাফিজের দ্বিতীয়ঃ ইনিংসের ২৫তম ওভারে বোলিংয়ে এসে আবারো শ্রীলঙ্কার শিবিরে আঘান হানেন পেসার মুস্তাফিজ। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান কুশল পেরেরাকে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ বানিয়ে আউট করেন তিনি। মুস্তাফিজের করা বলটি তুলে মারতে গিয়ে শর্ট কাভার অঞ্চলে সৌম্যর তালুবন্দি হন তিনি। ফলে মাত্র ৩০ রানে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাঁকে।
মুস্তাফিজের আঘাতঃ দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে উইকেটের দেখা পেলেন মুস্তাফিজ। ২১ তম ওভারের চতুর্থ বলে দারুণ খেলতে থাকা ওপেনার আভিস্কা ফার্নান্দোকে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ বানিয়ে আউট করেন তিনি।
মুস্তাফিজের করা শর্ট বলটি পুল করতে চেয়েছিলেন আভিস্কা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মিড অন অঞ্চলে তামিমের তালুবন্দি হতে হয় তাঁকে। এরই সঙ্গে শেষ হয় তার ৭৫ বলে ৮২ রানের ঝড়ো ইনিংসটির। ২টি ছয় এবং ৯টি চার মেরেছেন এই ওপেনার।

মিরাজের ব্রেক থ্রুঃ ১২তম ওভারে বোলিংয়ে এসে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। ওভারের তৃতীয় বলে অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নেকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান তিনি। মিরাজের বলটি অফ সাইডে খেলতে চেয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা করতে ব্যর্থ হওয়ায় ১৫ রানে আউট হন তিনি।
শ্রীলঙ্কার উড়ন্ত সূচনাঃ বাংলাদেশের দেয়া ২৩৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার আভিস্কা ফার্নান্দোর ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। খেলতে নেমে মাত্র ৮ ওভারের মাথায় দলীয় পঞ্চাশ রান পার করে তারা।
এর আগে মুশফিকুর রহীমের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ভর করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ দল। নির্ধারিত ৫০ ওভারে বাংলাদেশের ৮ উইকেট হারিয়ে ২৩৮ রান করে। এদিন মুশফিক একাই বাংলদেশকে পথ দেখিয়েছেন।
এই ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ব্যাট হাতে অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে পারেননি বাংলাদেশের ওপেনাররা। ইনিংসের প্রথম পাঁচ ওভারে লঙ্কান বোলারদের বিপক্ষে বড় কোনো ভুল করেননি তামিম-সৌম্য। তবে ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে নুয়ান প্রদীপের বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন সৌম্য।
১৩ বলে ১১ রান করে সাজঘরে ফিরে যান এই ওপেনার। এর খানিক পর ইসুরু উদানার বলে অফ সাইডে ড্রাইভ করতে গিয়ে ইনসাইড এজে বোল্ড হন তামিম। ৩১ বলে ১৯ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন এই ওপেনারও।
দুই ওপেনারকে হারানোর পর তিন নম্বরে নামা মোহাম্মদ মিঠুন এবং উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম মিলে দলের হাল ধরার চেষ্টা করছিলেন। দুজন মিলে দেখে শুনে খেলে দলকে বিপদমুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
তাঁদের এই চেষ্টায় বাঁধা হয়ে দাঁড়ান লঙ্কান স্পিনার আকিলা ধনঞ্জয়া। ডানহাতি এই স্পিনারের বলে মিড উইকেট অঞ্চলে ক্যাচ দিয়ে কুশল মেন্ডিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন মিঠুন। ২৩ বলে ১২ রান আসে তাঁর ব্যাট থেকে।
অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান তিন নম্বর পজিশনের নিয়মিত মুখ হলেও চলতি সিরিজে তিনি না খেলায় এই পজিশনের দায়িত্ব দেয়া হয় মিঠুনকে। সিরিজের প্রথম ম্যাচেও এই পজিশনে নেমে দলকে বিপদে ফেলে সাজঘরে ফেরেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
মিঠুন বিদায় নেয়ার খানিক পর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকেও সাজঘরে ফেরত পাঠান এই স্পিনার। ১৮ বলে ৬ রান করে ধনঞ্জয়ের স্পিনে বোল্ড হন এই ব্যাটসম্যান।
উপরের সারির ৪ ব্যাটসম্যান ফিরে যাওয়ার পর মুশফিকুর রহিমকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি সাব্বির রহমানও। রান আউটের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফিরেছেন এই ব্যাটসম্যান। খানিক পর ১৩ রান করা মোসাদ্দেককে বিদায় করেন ইসুরু উদানা।
সপ্তম উইকেটে অবশ্য বাংলাদেশকে লাড়াকু সংগ্রহের স্বপ্ন দেখান মেহেদী হাসান মিরাজ এবং একপ্রান্ত আগলে রাখা মুশফিক। এই দুজনে সপ্তম উইকেটে যোগ করেছেন ৮৪ রান। মূলত এই দুজনের ব্যাটেই লড়াইয়ের ভিত পায় বাংলাদেশ।
এই জুটির পথেই চলতি সিরিজে টানা দ্বিতীয়বারের মতো হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক। মিরাজ ৪৩ রান করে ফিরলে এই দুজনের জুটি ভাঙে। শেষ দিকে তাইজুল ইসলাম ৩ রান করে রান আউট হয়ে ফিরলেও মুস্তাফিজকে নিয়ে ইনিংস শেষ করে আসেন মুশফিক।
শেষ পর্যন্ত ১১০ বলে ৯৮ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন মুশফিকুর। তাঁর ইনিংসটি সাজানো ছিল ৬টি চার এবং ১টি ছক্কায়।