কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করার ব্রত মিঠুনের

ছবি: ছবি- বিসিবি

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||
'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?'- কুসুমকুমারী দাসের 'আদর্শ ছেলে' কবিতার এই বিখ্যাত চরণটির সঙ্গে বাস্তবতার মিল অনেকখানি। কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারাই যে চরম সার্থকতা সেটিই কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরেছিলেন কুসুমকুমারী।
কথার মাধ্যমে মানুষ খুব সহজেই কল্পরাজ্যের রাজা হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা পুরোটাই উল্টো। সেখানে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য হাড়ভাঙ্গা খাটুনি করতে হয় নিরন্তর। আর একজন ক্রিকেটারের জন্য তো এই খাটুনি অনেকটাই নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়।
বিশেষ করে পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করার কাজটি প্রতিনিয়তই করতে হয় তাঁদের। পারফরম্যান্স খারাপ হলে দল থেকে বাদ পড়তে হবে এই ভয় নিয়ে কঠোর পরিশ্রমে লিপ্ত থাকতে হয় ক্রিকেটারদেরকে। কাজের মাধ্যমে সফলতা প্রমাণ করাটাই যে ব্রত তাঁদের। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ডানহাতি ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুনও এর ব্যতিক্রম নন।

কাজের মাধ্যমে নিজের পরিচয় বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে চান তিনি। কুসুমকুমারী দাসের রচনা করা সেই কবিতার মতোই হয়ে উঠতে চান একজন 'আদর্শ ছেলে।' মিঠুন বলেছেন, 'এই বিশ্বে সব ক্রিকেটার এক নয়। সকলের শরীরী ভাষাও এক নয়। আপনার কাউকে বলতে হবে না যে আপনি কে। আপনার কাজই প্রমাণ করবে আপনার পরিচয়।'
একই সঙ্গে সৎ এবং ধৈর্যশীল থেকে সেরাটা ঢেলে দেয়াকেও সাফল্যের পাথেয় হিসেবে বিবেচিত করছেন ২৯ বছর বয়সী মিঠুন। নিজের প্রতি অকুণ্ঠ বিশ্বাস রাখতে পারলে বড় স্বপ্ন দেখা সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন তিনি।
সততাকে সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা মেনে চলা মিঠুনের ভাষ্য, ''আমার দিক থেকে আমি সৎ আছি। আমি আমার কাজের প্রতি অনেক বেশি সৎ এবং সবসময় সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করি। যদিও আমি যেভাবে কাজ করি, সেভাবে প্রত্যাশা অনুযায়ী সবসময় পারফরম্যান্স করতে পারি না। তবে আমি কখনও ভাবি না যে এটি আসবে না। আমার ভেতরে সবসময় একটা আত্মবিশ্বাস কাজ করছে যে আমি আজ হোক কাল হোক ফলাফল পাবো। তাই আমাকে ধৈর্য ধরতে হবে সঠিক জিনিসটা পাওয়ার জন্য।'
২০১৪ সালে ওয়ানডেতে অভিষেক হলেও এখন পর্যন্ত দলে সেভাবে থিতু হতে পারেননি মিঠুন। রক্ষণাত্মক খেলার জন্যও এর আগে কয়েকবার সমালোচিত হয়েছেন তিনি। তবে একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে এসব নিয়ে ভাবেননা মিঠুন। বরঞ্চ কিভাবে রান করতে পারবেন সেদিকে বেশি গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
মিডল অর্ডার এই ব্যাটসম্যানের বক্তব্য, 'মাঠে যে আমি শতভাগ ফোকাস থাকি সেটি জানি। আমি কখনো নিজেকে হারিয়ে ফেলি না। ব্যাটিংয়ে আমার স্ট্রাইক রেট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ধরুন আমি ব্যাটিং করতে নেমেছি এবং একটি সুন্দর কাভার ড্রাইভ খেললাম, তখন সেটা দারুণ হবে। কিন্তু দেখা গেল আমি ১৫ বলে ৪ রান করেছি। সুতরাং এক্ষেত্রে আমাকে কি বলা যাবে? একজন আক্রমণাত্মক নাকি রক্ষণাত্মক ব্যাটসম্যান? আমি মাত্র একটি সুন্দর শট খেলেছি এবং বাকিগুলো ডট। আমার কাছে এরচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো কিভাবে আমি ১৫ বলে ২০ রান করতে পারলাম। স্ট্রাইক রোটেট করে নাকি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেটা বড় কথা নয়।'
এখন পর্যন্ত দেশের হয়ে ৯টি টেস্ট, ২৭টি ওয়ানডে এবং ১৫টি-টোয়েন্টি খেলেছেন মিঠুন। যেখানে টেস্টে ১৯.২৫ গড়ে ৩০৮ রান করেছেন তিনি। অপরদিকে ওয়ানডেতে ২৮.৭৫ গড়ে ৫৭৫ রান রয়েছে তাঁর। আর টি-টোয়েন্টিতে ১২.২০ গড়ে ১২২ রান করেন তিনি।