রোডসের সামনে কঠিন রাস্তা

ছবি:

চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে বড় মাপের ক্রিকেটার ছিলেন না। কোচ হিসেবে বাংলাদেশে এসেছিলেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার নগণ্য অভিজ্ঞতা নিয়ে। কিন্তু বাংলাদেশ ছেড়েছেন বিশ্বের হাই প্রোফাইল কোচ হিসেবে।
রেকর্ড পরিমান পারিশ্রমিক নিয়ে স্বদেশের কোচ পদে যোগ দিয়েছেন চণ্ডিকা। এবার নতুন মোড়কে আরেক হাথুরুসিংহেকে বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ দিল বাংলাদেশ দল। কোচিং অভিজ্ঞতা ১১ বছরের হলেও খেলোয়াড় হিসেবে গড়পড়তা ছিলেন স্টিভ রোডস।
চণ্ডিকা হাথুরুসিংকে পরিকল্পনা সাজানোর ক্ষেত্রে তুখোড় ছিলেন। স্টিভ রোডস এই ক্ষেত্রে কতটা মুনশিয়ানা দেখাতে পারেন সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে তরুন প্রতিভা খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে সুনাম আছে রোডসের।
ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড প্রতিভা অন্বেষণের জন্য স্কাউট হিসেবে ব্যবহার করেছেন এই ইয়র্কশায়ারম্যানকে। দুই বছরের চুক্তিতে বাংলাদেশে আসা রোডসকে অবশ্য কঠিন রাস্তা পার করতে হবে। এক বছর বাদেই বিশ্বকাপ, তার পরের বছরেই টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর।

দুটি মেজর টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দল অভিজ্ঞ দল হিসেবে প্রবেশ করবে। প্রত্যাশার চাপ থাকবে আকাশচুম্বী। প্রথমবারের মত কোন টেস্ট খেলুড়ে দেশের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেয়া রোডস পারবে তো প্রত্যাশার চাপ সামলাতে?
সন্দেহ দূর করতে এই বিষয়ে বলেছেন রোডস নিজেই। 'আমি খুবই ভাগ্যবান একদিক থেকে। আমি ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সাথে কাজ করেছি বিভিন্ন সময়। আমি ২০১৬ সালে ইংল্যান্ড দলের বাংলাদেশ সফরের সাথেও ছিলাম।
সুতরাং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোচিং করানোর স্বাদ আমি পেয়েছি। কোচিং এর ক্ষেত্রে খুব বেশি পার্থক্য কিন্তু নেই, সেটা আন্তর্জাতিক হোক কিংবা ডোমেস্টিক। কিন্তু আন্তর্জাতিক সূচি বেশ ব্যস্ত। ক্রিকেটারদের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত রাখা সহজ কাজ নয়।'
২০০৬ সাল থেকে কাউন্টি দলের কোচিংয়ের দায়িত্ব পালন করে আসা রোডস ছোট দলকে বড় দলে পরিনত করায় পটু। কোচ হিসেবে এই ইংলিশ ম্যান যথেষ্ট উত্থান পতন দেখেছেন। সেই অভিজ্ঞতাকেই এবার কাজে লাগাতে চান বাংলাদেশের কল্যাণে।
'তবে অনুভব করি আমি এই কাজের জন্য যোগ্য। দেখতে পাচ্ছেন আমার চুল ধূসর বর্ণের। এর মানে আমি কঠিন সময় পার করে এসেছি, উত্থান পতন দেখেছি। আশা করি আমার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ দলের জন্য মূল্যবান হবে।'