নুরুলদের কাছে মাশরাফিদের হার

ছবি:

ডিপিএলের সুপার সিক্স রাউন্ডে নিজেদের গত ম্যাচে গাজি গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে ৭৩ রানের দারুণ একটি জয় পেয়েছিলো নাসির-মাশরাফিদের দল আবাহনী লিমিটেড। এবার টানা দ্বিতীয় জয় ছিনিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে আজ শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের মুখোমুখি হয়েছিলো তারা। কিন্তু এবার ভাগ্যের শিকে ছিঁড়লো না আবাহনীর।
কেননা এই ম্যাচে নুরুল হাসান সোহানের দলটির কাছে ২৭ রানের ব্যবধানে পরাজিত হতে হয়েছে নাসির-মাশরাফিদের দল আবাহনীকে। ফতুল্লাহর খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের শুরুতে এদিন টসে জিতে শেখ জামালকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন আবাহনীর অধিনায়ক নাসির হোসেন।
আর নাসিরের আমন্ত্রণে ব্যাটিং করতে নেমে ভারতীয় রিক্রুট উন্মুক্ত চাঁদের দারুণ সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৫৬ রান সংগ্রহ করে শেখ জামাল। উন্মুক্ত চাঁদের ১০১ রানের ইনিংসটি ছাড়াও আরেক ওপেনার সৈকত আলি করেছেন ৫৬ রান।
এছাড়াও অলরাউন্ডার তানবির হায়দার ৩১ এবং অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান ১৯ রান করেন। বাদবাকি ব্যাটসম্যানদের আর কেউই সেভাবে বলার মতো রান করতে পারেননি। আবাহনীর পক্ষে সবথেকে সফল বোলার ছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।
শেখ জামালকে কম রানে আটকে রাখার পেছনে মূলত তাঁর কৃতিত্বই সবথেকে বেশি ছিলো। কেননা ১০ ওভার বোলিং করে ১ মেইডেন সহ ৪৬ রানে ৩ উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি। যার মধ্যে সেঞ্চুরিয়ান উন্মুক্ত চাঁদের উইকেটটিও ছিলো।

২টি করে উইকেট নিয়ে নড়াইল এক্সপ্রেসকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ এবং মেহেদি হাসান মিরাজ। এখন পর্যন্ত এই ম্যাচটি সহ ১৪ ইনিংসে ৩৮ উইকেট শিকার করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি মাশরাফি।
শেখ জামালের ছুঁড়ে দেয়া ২৫৭ রানের লক্ষ্যে এরপর সবাইকে অবাক করে দিয়ে ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নামেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। যদিও ব্যাট হাতে ভালো করতে পারেননি তিনি। মাত্র ৭ রান করে আবু জায়েদ রাহির বলে বোল্ড হয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁকে।
আর মাশরাফি ফেরার পরেই যেন তাসের ঘরে পরিণত হয় আবাহনীর ব্যাটিং লাইন আপ। দলের রান শত পার হওয়ার আগেই তারা হারিয়ে বসে প্রথম সারির ৫ টি উইকেট। শেষের দিকে তাসকিন আহমেদের ব্যাটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়তে সক্ষম হলেও তা যথেষ্ট ছিলো না আবাহনীর জন্য।
শেষ পর্যন্ত ৩১ রান করা তাসকিনকে বিদায় করে আবাহনীর কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন রবিউল হক। ফলে ১৬ বল আগেই ২৩০ রানে গুঁটিয়ে যায় শক্তিশালী আবাহনী। আবাহনীর ব্যাটিং লাইন আপে ধ্বস নামানোর মূল কাজটি করেছেন পেসার আবু জায়েদ রাহি এবং রবিউল হক।
৮ ওভার বোলিং করে ২টি মেইডেন সহ ৪০ রানে ৩ উইকেট শিকার করেছেন রাহি। যেখানে মাশরাফির উইকেটটিও ছিলো। অপরদিকে ৩৫ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন রবি। আবাহনীর পক্ষে ৩৫ রান করেছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৪ রান এসেছে ওপেনার আনামুল হক বিজয়ের ব্যাট থেকে। এছাড়াও অধিনায়ক নাসির ২৮ এবং সানজামুল ইসলাম ২৭ রান করেন।
শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব-
সৈকত আলি, উন্মুক্ত চাঁদ, রাকিন আহমেদ, তানবির হায়দার, নুরুল হাসান সোহান (অধিনায়ক), নাজমুল ইসলাম, আবু জায়েদ রাহি, জিয়াউর রহমান, রবিউল হক, ইলিয়াস সানি, সোহাগ গাজি।
আবাহনী লিমিটেড-
আনামুল হক বিজয়, নাজমুল হাসান শান্ত, হানুমা বিহারি, নাসির হোসেন (অধিনায়ক), মোহাম্মদ মিথুন (উইকেটরক্ষক), মাশরাফি বিন মর্তুজা, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদি হাসান মিরাজ, সানজামুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, সাকলাইন সজীব।