'শেষ বলটি ভালো করলে ১৬ কোটি মানুষ হাসতো'

ছবি:

নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে ভারতের কাছে পরাজয়ের ক্ষত হয়তো কোনো দিনই ভুলতে পারবেন না টাইগার ভক্তরা। তবে শুধু ভক্তরাই নন, সেই হারের জ্বালা আরো অনেকদিন বইতে হবে ক্রিকেটারদেরকেও।
বিশেষ করে টাইগার ক্রিকেটার সৌম্য সরকারকে। কেননা তার করা শেষ ওভারের শেষ বলটিতেই তো ছক্কা মেরে বাংলাদেশের স্বপ্ন ভঙ্গ করেছিলেন ভারতীয় উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান দীনেশ কার্ত্তিক। তবে শেষ বলটির মূলত স্নায়ুচাপেই ভুগছিলেন সৌম্য।
যার কারণে ইয়র্কার দেয়ার পরিকল্পনা থাকলেও সেটি দিতে পারেননি তিনি। সম্প্রতি দেশীয় চ্যানেল একাত্তরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌম্য জানিয়েছেন এমনটাই।শেষ বলটি কোন লেন্থে করার পরিকল্পনা ছিলো এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন,

'মূল পরিকল্পনা ছিলো ওয়াইড ইয়র্কার দেয়ার। রান বাকি ছিলো ৫, সেই পরিস্থিতিতে যদি ওয়াইড ইয়র্কার মারি সেই বলে ছয় হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে। হয়তো ব্যাটের কানায় লাগলে কিংবা কাভারের উপর দিয়ে মারলে চার হবে। এই আশাই ছিলো যে তারপরেও ড্র হবে, সুপার ওভারে যাবে।'
দীনেশ কার্ত্তিককে করা বলটির আগে রীতিমত দাঁড়াতেই পারছিলেন না সৌম্য। তাঁকে দেখেই অবশ্য বোঝা গিয়েছিলো কতটা চাপের মুখে ছিলেন তিনি। টাইগার এই ক্রিকেটার নিজেও স্বীকার করলেন সেটি। বললেন,
'ঐ সময় আমি যতোই চেষ্টা করছিলাম যে শান্ত থাকবো, শক্ত হয়ে দাঁড়াবো কিন্তু মনে হচ্ছিলো যেন পায়ে এবং শরীরে কোনো শক্তি নেই। একটা সেইরকমই পরিস্থিতি যে শরীর অবশ যে আমি চাইলেও দাঁড়ায় সোজা হয়ে বোলিং করবো, শক্ত থাকার চেষ্টা করবো। কিন্তু হচ্ছিলো না।'
জয়ের এত কাছে গিয়েও স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ায় মাঠেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়তে দেখা গিয়েছিলো সৌম্যকে। শুধু তাই নয়, ড্রেসিং রুমে গিয়েও নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি তিনি। একাত্তর টিভি সেই পরিস্থিতি সম্পর্কে জানাতে গিয়ে তিনি বলেন,
'ড্রেসিং রুমের ভেতরে যখন একা ছিলাম তখন একটু বেশি ইমোশনাল হয়ে পড়েছিলাম। তখন চিন্তা করার সময়টি আরো বেশি ছিলো, চিন্তাগুলো বেশি চলে আসছিলো। যতো সময় যাচ্ছিলো চিন্তাটা আরো বাড়ছিলো। যতো একা হচ্ছিলাম চিন্তাটা আরো বাড়ছিলো আরকি। আপসোস তো থাকবেই সারা জীবন। যখনই মনে পড়বে যে আমার হাতেই ছিলো ১৬ কোটি মানুষের হাসির বিষয় নির্ভর করছে। আমি যদি শেষ বলটি ভালো করতাম তাহলে অবশ্যই ১৬ কোটি মানুষ হাসতো।'