একপেশে ফাইনালে হায়দরাবাদকে গুঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন কলকাতা

ছবি: সংগৃহীত

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||
২০১৪ সালের পর ৯ মৌসুম পেরিয়ে গেলেও আইপিএলের শিরোপা ছুঁয়ে দেখতে পারেনি কলকাতা নাইট রাইডার্স। সবশেষ কয়েক মৌসুমে নিজেদের একেবারে চিরচেনা ছন্দেই ছিল না দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা। ২০১২ এবং ২০১৪ সালে অধিনায়ক হিসেবে কলকাতাকে শিরোপা জেতানো গৌতম গম্ভীরকে নিজেদের ডেরায় ফেরাতেই বদলে যায় কলকাতা। মেন্টরের দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম মৌসুমেই কলকাতাকে চ্যাম্পিয়ন করালেন ভারতের সাবেক এই বিশ্বকাপজয়ী ওপেনার। মেগা ফাইনালে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামা সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে শুরু থেকেই চেপে ধরেন কলকাতার বোলাররা।
মিচেল স্টার্ক, হার্শিত রানার দারুণ বোলিংয়ের পর শেষ দিকে আন্দ্রে রাসেলের ৩ উইকেটে মাত্র ১১৩ রানে গুটিয়ে যায় হায়দরাবাদ। সহজ লক্ষ্য তাড়ায় দ্বিতীয় ওভারে সুনীল নারিন ফিরলেও কলকাতাকে পথ দেখাতে থাকেন ভেঙ্কেটেশ আইয়ার। তিনে নামা এই ব্যাটারকে দারুণভাবে সঙ্গ দিয়েছেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ। তাদের দুজনের ব্যাটে শেষ পর্যন্ত হায়দরাবাদকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে তারা। ৫৭ বল বাকি থাকতে হায়দরাবাকে গুঁড়িয়ে দিয়ে তৃতীয়বারের মতো আইপিএলের শিরোপা উঁচিয়ে ধরলো শ্রেয়াস আইয়ারের কলকাতা।
সহজ লক্ষ্য তাড়ায় ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় কলকাতা। কামিন্সের শর্ট লেংথ ডেলিভারিতে ছক্কা মেরে নিজের প্রথম বলেই রানের খাতা খুলেছিলেন সুনীল নারিন। তবে তাকে ইনিংস বড় করতে দেননি হায়দরাবাদের অধিনায়ক। কামিন্সের অফ স্টাম্পের বাইরের লেংথ ডেলিভারিতে ফ্লিক করতে গিয়ে শাহবাজ আহমেদের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন নারিন। পুরো মৌসুমে ব্যাট হাতে দাপট দেখানো বাঁহাতি এই ওপেনারকে হায়দরাবাদের বিপক্ষে ফিরতে হয়েছে ২ বলে ৬ রান করে।

নারিন ফিরলেও কলকাতাকে চাপে পড়তে দেননি ভেঙ্কেটেশ আইয়ার। একেবারে শুরু থেকেই আক্রমণাত্বক ছিলেন তিনি। ভুবনেশ্বর কুমারের করা তৃতীয় ওভারে দুই ছক্কা ও এক চারে ২০ রান তুলেছেন তিনি। এরপর থেকেই হায়দরাবাদের বোলারদের বিপক্ষে রীতিমতো তাণ্ডব চালাতে থাকেন ভেঙ্কেটেশ। থাঙ্গারাসু নাটারাজনের এক ওভারেও তিন চার ও এক ছক্কায় ২০ রান এনেছেন তিনি। তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছিলেন গুরবাজ।
তাদের দুজনের ব্যাটে পাওয়ার প্লেতে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭২ রান তোলে কলকাতা। আইপিএলের ফাইনালে পাওয়ার প্লেতে এটিই সবচেয়ে বেশি রান তোলার রেকর্ড। এর আগে ২০২৩ সালের আইপিএলের ফাইনালে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে বিনা উইকেটে ৬২ রান তুলেছিল গুজরাট টাইটান্স। কলকাতা অবশ্য এটিকে এদিন ছাড়িয়ে গেছেন। জয়ের খুব কাছে দাঁড়িয়ে গুরবাজের উইকেট হারায় কলকাতা। শাহবাজের বলে লেগ বিফোর উইকেট হয়ে ফিরেছেন ৩৯ রানে। এরপর ভেঙ্কেটেশকে সঙ্গে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন শ্রেয়াস। দারুণ ব্যাটিংয়ে ২৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি করা ভেঙ্কেটেশ অপরাজিত ছিলেন ৫২ রানে।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা হায়দরাবাদের শুরুটা ভালো করতে দেননি মিচেল স্টার্ক। পুরো আসর জুড়ে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষকে ভয় ধরানো অভিষেক শর্মাকে ইনিংসের প্রথম ওভারেই ফিরিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার। স্টার্কের মিডল স্টাম্পে পড়ে একটু সুইং করে বেরিয়ে যাওয়া চোখ ধাঁধানো লেংথ ডেলিভারিতে বলের লাইন মিস করে বোল্ড হয়েছেন অভিষেক। আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেডও ফিরেছেন পরের ওভারে।
ভৈবব অরোরার লেংথ ডেলিভারিতে খোঁচা দিতে গিয়ে উইকেটের পেছনে থাকা গুরবাজের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়েছেন। ৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর এইডেন মার্করামকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন রাহুল ত্রিপাঠি। তবে তাদের দুজনের জুটি বড় হতে দেননি স্টার্ক। বাঁহাতি এই অজি পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের গতিময় ডেলিভারিতে ফ্লিক করতে গিয়ে রমনদীপের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ৯ রান করা ত্রিপাঠি। দলের পঞ্চাশ হওয়ার আগে নীতিশ রেড্ডি সাজঘরে ফিরেছেন হার্শিত রানার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে।
এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে হায়দরাবাদ। মার্করাম, শাহবাজ আহমেদরা কেউই সুবিধা করতে পারেননি। হেনরিখ ক্লাসেন থাকায় ভরসা পাচ্ছিলেন তারা। তবে তাকেও এদিন বড় ইনিংস খেলতে দেননি হার্শিত। ডানহাতি এই পেসারের বলে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড আউট হয়েছেন ক্লাসেন। বাকিদের আসা-যাওয়ার মিছিলে কামিন্স ২৪ রান করলে হায়দরাবাদ অল আউট হয় মাত্র ১১৩ রানে। রাসেল একাই নিয়েছেন তিনটি উইকেট। বাকিদের মাঝে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন স্টার্ক ও হার্শিত।