তিন দিনেই ফলাফল পেল নিউজিল্যান্ড
ছবি: ছবি- বিসিবি

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||
ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম দুই দিন বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও ফলাফল বের করে আনতে সক্ষম হয়েছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। সফরকারী বাংলাদেশকে আজ টেস্টের পঞ্চম দিন ইনিংস এবং ১২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। আর একই সাথে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি ২-০ তে জিতে নিয়েছে কিউইরা।
আজ নিউজিল্যান্ডের থেকে ১৪১ রানে পিছিয়ে থেকে খেলা শুরু করা বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে মাত্র ২০৯ রানে। কিউইদের বোলিং তোপের সামনে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এবং মোহাম্মদ মিঠুন ছাড়া আর তেমন কেউ সুবিধা করতে পারেননি। রিয়াদে ৬৭ রানের দারুণ একটি ইনিংস খেলেছেন। আর মিঠুনের ব্যাট থেকে এসেছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৭ রান।
এছাড়াও সাদমান ইসলাম ২৯ এবং সৌম্য সরকার ২৮ রান করেন। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে সবথেকে সফল যথারীতি নিল ওয়েগনার। একের পর এক বাউন্সারে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের রীতিমত নাকাল করে ছেড়েছেন তিনি। মাত্র ৪৫ রান খরচায় ৫টি উইকেট নিয়ে টাইগারদের ব্যাটিং লাইন আপে ধস নামা এই পেসার। ৫২ রান খরচায় ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েগনারকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন ট্রেন্ট বোল্ট।
এদিন ৩ উইকেটে ৮০ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করেছিলেন সৌম্য এবং মিঠুন। ১২ ও ২৫ রানে অপরাজিত থাকা দুই ব্যাটসম্যান শুরুটা কিছুটা সাবধানী ভঙ্গীতে করেছিলেন। দিনের শুরুতে বোলিংয়ে আসা টিম সাউদির ওভার থেকে মাত্র ১ রান নিয়েছিলেন সৌম্য। ট্রেন্ট বোল্টের পরের ওভারটিতে অবশ্য ৫ রান পায় বাংলাদেশ। তার মধ্যে চারটি রান এসেছে লেগ বাই থেকে।
তবে দলকে শত রানের কোটা পার করার পর ট্রেন্ট বোল্টের ৩৩তম ওভারের প্রথম বলে রস টেইলরের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় সৌম্যকে। কিউই এই পেসারের ব্যাক অফ লেন্থে করা বলটি ঠিকভাবে বুঝতে না পারায় প্রথম স্লিপে ফিল্ডিংরত টেইলরের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। এরই সাথে শেষ হয় তাঁর ২৮ রানের ইনিংসটি। আর দলীয় ১১২ রানে চতুর্থ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে সফরকারীরা।

সৌম্য ফেরার পর ইনিংস লম্বা করতে ব্যর্থ হয়েছেন মিঠুনও। নিল ওয়েগনারের করা ৪৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলটিতে টিম সাউদির হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন দারুণ খেলতে থাকা এই ব্যাটসম্যান। ওয়েগনারের শর্ট বলটি পুল করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগ অঞ্চল সাউদির তালুবন্দি হতে হয় তাঁকে। এর ফলে ৪৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন মিঠুন।
মিঠুনের পর ওয়েগনারের বাউন্সারে পরাস্ত হন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাসও। ৪৬তম ওভারের চতুর্থ বলে ট্রেন্ট বোল্টের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। কিউই এই পেসারের শর্ট বলটি পুল করতে গিয়ে ফাইন লেগ অঞ্চলে বোল্টের তালুবন্দি হন লিটন।
দলীয় ১৭০ রানের মাথায় সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ওয়েগনারের করা ৪৮তম ওভারের চতুর্থ বলটি সিলি পয়েন্ট অঞ্চলে টম লাথামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তাইজুল ইসলাম। এবারও শর্ট বল দিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানকে পরাস্ত করেছেন ওয়েগনার। তাইজুলের বিদায়ে ১৭০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের ক্ষণ গোনা শুরু করে বাংলাদেশ।
অবশ্য এক প্রান্তে ধারাবাহিকভাবে উইকেট পড়তে থাকলেও দারুণ ব্যাটিং করে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৬তম হাফসেঞ্চুরি তুলে নিতে সক্ষম হন টাইগার অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ওয়েগনারের ৫০তম ওভারের দ্বিতীয় বলটি লং অন অঞ্চল দিয়ে সীমানা ছাড়া করার মাধ্যমে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি।
একটা সময় রিয়াদের ব্যাটেই লিডের স্বপ্ন দেখছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু এবারও সেই ওয়েগনার ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছেন। ইনিংসের ৫৬তম ওভারের চতুর্থ বলে দলীয় ২০৯ রানের মাথায় মাহমুদুল্লাহকে বোল্টের হাতে ক্যাচ বানিয়ে আউট করেছেন ওয়েগনার। তাঁর শর্ট বলটি পুল করতে চেয়েছিলেন রিয়াদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফাইন লেগ অঞ্চলে ধরা পরতে হয় বোল্টের হাতে। আর অধিনায়কের বিদায়ে আর একটি রানও যোগ করতে পারেনি বাংলাদেশ। অলআউট হয়েছে ২০৯ রানে।
এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২১১ রানে অলআউট হয়েছিলো বাংলাদেশ। তামি ইকবাল ৭৪ রানের একটি ইনিংস। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ২৮ রানে ৪টি ওয়েগনার এবং ৩৮ রানে ৩টি উইকেট পেয়েছিলেন ট্রেন্ট বোল্ট। বাংলাদেশের এই রানের জবাবে রস টেইলরের দ্বিশতক এবং হেনরি নিকোলসের শতকের উপর ভর করে ৬ উইকেটে ৪৩২ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিলো কিউইরা। ফলে ২২১ রানের লিড পেয়েছিলো তারা।
সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসঃ ২১১/১০ (৬১ ওভার) (তামিম- ৭৪, লিটন-৩৩; ওয়েগনার ৪/২৮, বোল্ট-৩/৩৮)
নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংসঃ ৪৩২/৬ ডিক্লে (৮৪.৫ ওভার) (টেইলর- ২০০, নিকোলস-১০৭; রাহি ৩/৯৪, তাইজুল-২/৯৯)
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসঃ ২০৯/১০ (৫৬ ওভার) (মাহমুদুল্লাহ- ৬৭, মিঠুন-৪৭; বোল্ট- ৪/৫২, ওয়েগনার- ৫/৪৫)