মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আনছে বিসিবি

ছবি: ছবিঃ ক্রিকফ্রেঞ্জি

|| ক্রিকফ্রেঞ্জি করেসপন্ডেন্ট ||
বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা কদিন পর পরই নেতিবাচক খবরের শিরোনাম হচ্ছেন। আর তাতে ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। শাহাদাত হোসেন, রুবেল হোসেন, আরাফাত সানি, মোহাম্মদ শহীদ, নাসির হোসেন, সাব্বির রহমানের পর মোসাদ্দেক—ক্রিকেটারদের বিশৃঙ্খল ব্যক্তিগত কিংবা পারিবারিক জীবনের ঘটনায় নিয়মিতই বিব্রত হচ্ছে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বিসিবি সভাপতি বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যমের সাথে আলাপকালে জানিয়েছেন ক্রিকেটারদের সব ব্যক্তিগত সমস্যায় বিসিবি জড়াবে না। আর বিসিবির পক্ষেও ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি ভাবার সুযোগও নেই। তিনি বলেছেন,
'এখানে বেশ কিছু ব্যাপার আছে। ব্যক্তিগত সমস্যা অনেকেরই আছে, সেটি থাকতেই পারে। সবকিছুর মধ্যে কিন্তু বিসিবিকে জড়ালে হবে না। সবকিছু বিসিবির পক্ষে করাও সম্ভব নয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় কেউ যদি এখন কাউকে ডিভোর্স করতে চায় এটি নিয়ে আমরা কি করবো? কেউ যদি একাধিক বিয়ে করে সেটি নিয়েও তো আমাদের কিছু করার নেই। সুতরাং আপনাদের বুঝতে হবে। সবকিছুর মধ্যে আমাদের ঢুকালে হবে না।'

এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে বিসিবি মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে। যদিও পুরো বিষয়টিই আলোচনাধীন। মূলত ক্রিকেটারদের আচরণ বিধিতে পরিবর্তন আনার জন্যই এই পরিকল্পনা করছে বিসিবি। এমনটাই জানিয়েছেন নাজমুল হাসান।
'আমরা যে ব্যাপারে আলাপ করছিলাম সেটি হলো সাইক্রিয়াটিস্ট বা সাইকোলজিস্ট বাইরের থেকে নিয়ে আসার কথা ভাবছি। ক্রিকেটারদেরকে এই ব্যাপারে যেন একটু ট্রেনিং দেয়া যায়। আমরা তো খালি খেলায় জেতার জন্য গুরুত্ব দিয়ে থাকি, তবে এখন ব্যবহারের দিকটি নিয়েও কিছু করা যায় কিনা সেটি নিয়ে কথা বলতে বলেছি ইতিমধ্যে। তারা যোগাযোগ শুরু করে দিবে এবং ক্রিকেটাররাও কি কি করতে পারবে অথবা পারবে না সেটি নিয়েও কথা হয়েছে।'
এখন পর্যন্ত শাহাদাত হোসেন, রুবেল হোসেন, আরাফাত সানি, মোহাম্মদ শহীদ, নাসির হোসেন, সাব্বির রহমান ও মোসাদ্দেক হোসেন বিভিন্ন ব্যক্তিগত কারণে অভিযুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজন একাধিকবার বিভিন্ন কারণে বিসিবির দেয়া শাস্তিও ভোগ করেছেন। এদের কারোরই পক্ষে কথা বলতে দেখা যায়নি বিসিবিকে। তবে রুবেল হোসেনের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন ছিল। বেশ কয়েকজনকে সতর্কও করে দেয়া হয়েছে। তারপরও তারা যদি বিসিবির নির্দেশ না মানেন তবে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে বিসিবি। এমনটাই জানিয়েছেন নাজমুল হাসান।
'এখন পর্যন্ত যারাই অভিযুক্ত হয়েছে তাদের কাউকেই কিন্তু বোর্ড কোন রকম সাহায্য সহযোগিতা করেনি বা কাউকে সাহায্য করার চেষ্টাও করেনি। শুধুমাত্র একজন ছাড়া, আর সে ছিল রুবেল। সেসময় বিশ্বকাপে রুবেলকে নেয়ার জন্য আমরা চেষ্টা করেছিলাম। ভেবেছিলাম যে বিশ্বকাপে ওকে খেলতে নিয়ে যাওয়া যায় কিনা। এছাড়া কাউকেই আমরা কখনও সাপোর্ট দেইনি। বরং আমরা চেষ্টা করছি পদে পদে তাদেরকে সাবধান করার জন্য। এর জন্য তাদেরকে সাজা দেয়া হয়েছে, সাবধান করা হয়েছে এগুলো এখনও করা হচ্ছে। কিন্তু এরপরেও যখন হবে না তখন তো আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেই হবে।"
ক্রিকেটারদের আচরণ বিধির সাথে তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পদচারণা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনার পরিকল্পনা করছে বিসিবি। সিরিজ চলাকালীন সময়ে তাদের যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে বলে একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারে বোর্ড। এইরকম একটি গাইডলাইন তৈরি করে তাতে ক্রিকেটারদের সাক্ষর নেয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে দেশের ক্রিকেট কর্তাদের।