মিরপুরে রোচ-গ্যাব্রিয়েলদের ভয়

ছবি:

মিরপুরে ঈদের আমেজ লেগেছে। একে একে সব জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা দেশের বাড়ি যাচ্ছে পরিবারের সাথে ঈদ করতে। একাডেমী মাঠ ও জিমনেশিয়ামে তেমন আনাগোনা নেই বললেই চলে। তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের জন্য নিয়ম হয়তো একটু ভিন্ন।
সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যালেঞ্জ, দুই টেস্টের সিরিজ দিয়ে লম্বা সফরের শুরু। হাতে সময়ও বেশি নেই। সেই জানুয়ারি থেকে সাদা বলের ক্রিকেটে ব্যস্ত সময় কাটানোর পর এবার দরজায় কড়া নাড়ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর।
প্রস্তুতিটাও সেই রকম হওয়া চাই, কোন রকম ছাড় দেয়া নয়। তাই তো এই ভ্যাঁপসা গরমে নেট বোলারদের ঘাম ঝরিয়ে ছাড়লেন মুশফিকুর রহিম। ৫-৬ জন বোলারের বিপক্ষে টানা ব্যাট করলেন ঘণ্টা খানিক। আর থ্রো ডাউনের জন্য সবার প্রিয় সেন্টু ভাই তো আছেনই।
পাশের নেটেই দেখা গেল আরেক সিনিয়র তামিম ইকবালকে। বোলিং মেশিনে মাথা তাক করা বল সামলে যাচ্ছেন তিনি। অফ স্ট্যাম্পের বল ছেড়ে খেলছেন, কখনো কখনো ড্রাইভের বলও ছেড়ে দিচ্ছেন তিনি। টেস্ট মেজাজে ব্যাটিংয়ের আবহটা নেটে নিয়ে আসার চেষ্টা দেখা গেল তামিমের অনুশীলনে।
ততক্ষণে মুশফিককে বল করা এক দল বোলার ঘামে ভিজে ক্লান্ত হয়ে একাডেমী মাঠের এক কোণে এসে বসেছে। এদের মধ্যে একজন এসেই বললো, 'এবার রান করেই ছাড়বে, এই জন্যই আমাদের এত কষ্ট করালো।'
খানিকবাদে একটু বিশ্রাম নেয়ার জন্য নেট ছেড়ে আসলেন মুশফিকও। একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার অনুশীলনে নামবেন তিনি, এই ভাবনায় প্যাড খুললেন না। একটু বিশ্রাম নিতে এসেই নেট বোলারদের একজনের বলের গতি অনুমান করে বাহবা দিলেন মুশফিক।

তামিমের অনুশীলন তখন শেষের পথে। গুড লেন্থ থেকে বের হয়ে যাওয়া যেই বল গুলো এতক্ষণ ছেড়ে খেলছিল, এখন সেই বল গুলোই আঁচড়ে পড়ছে মিড উইকেটের দিকে। শেষের দিকে এসে পুল শটটা একটু ঝালাই করে নিলেন তামিম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কন্ডিশনে এই শটটাই বেশি ব্যবহার হওয়ার কথা।
মুশফিকুর রহিম তখন গল্প জুড়ে দিয়েছেন উপস্থিত ক্রিকেটারদের সাথে। দূর থেকে হেঁটে আসা তামিমকে খুব একটা সন্তুষ্ট মনে হল না। অনুশীলন থেকে যা আদায় করে নেয়ার ছিল তা হয়তো পান নি। মুশফিককে অবশ্য সন্তুষ্টই মনে হল।
তামিম আসতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন ফাস্ট বোলার শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, কিমার রোচ ও মিগুয়েল কামিন্সকে নিয়ে আলাপ জুড়ে দিলেন মুশফিক। অনুশীলন জুড়ে এই তিন বোলারই ছিল তামিম-মুশফিকদের ভাবনায়। কিমার রোচের আউট সুইং নিয়ে কথা বলতে দেখা গেল দুইজনকেই।
ডানহাতি মুশফিক তিন উইন্ডিজ পেসার রোচ, কামিন্স ও গ্যাব্রিয়েলদের আউট সুইংয়ে সতর্ক থাকার কথা মনে করিয়ে দেন। তামিম অবশ্য রোচের আউট সুইং থেকে ওয়াইড অব দ্যা ক্রিজ থেকে আসা ইনসুইংকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ক্যারিবিয়ান পেসারদের নিয়ে এই আলাপ চললো বেশ কিছুক্ষণ। এই দুই সিনিয়রের বাড়তি ভাবনার কারন কিন্তু যথেষ্ট, এই কিমার রোচ আর সেই ২০১০-১১ মৌসুমের জোরে বল করা কিমার রোচে পার্থক্য অনেক। গত দুই মৌসুমে গতি কমিয়ে বলের উপর নিয়ন্ত্রন বাড়িয়েছেন তিনি।
১৩৫ কিলোমিটারের এর আশেপাশে বল করলেও দুই দিকেই সুইং রপ্ত করেছেন তিনি। বদলে যাওয়া কিমার রোচ গত ইংলিশ গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডকে যথেষ্ট ভুগিয়েছেন। হেডিংলিতে ইংল্যান্ডকে হারানোর পেছনে রোচ ও গ্যাব্রিয়েলের পারফর্মেন্স উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের ভীতিকর বোলিংয়ের স্মৃতি তো যথেষ্ট তরতাজা। গত সপ্তাহেই শ্রীলঙ্কান তারকা ব্যাটসম্যানরা তার শরীর তাক করা বোলিং সহ্য করেছেন। নিয়মিত ১৪০ কিলোমিটার বেগে বল করা গ্যাব্রিয়েল উইন্ডিজ বোলিং আক্রমণের 'মেইন ম্যান'।
২০১২ সালের দিকে টেস্ট ক্রিকেটে পা দেয়া ত্রিনিদাদের এই ফাস্ট বোলার ২০১৬ সালের পর থেকে নিজেকে বদলে ফেলেছেন। কামিন্সও কম যান না, তরুন এই দীর্ঘদেহী ফাস্ট বোলার এখন পর্যন্ত নয় টেস্ট খেলেছেন।
রোচ ও গ্যাব্রিয়েলের পর বোলিং আক্রমণে প্রথম পরিবর্তনেই বোলিংয়ে আসেন এই বারবাডিয়ান পেসার। তার উপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ গত কয়েক মৌসুম ধরে ডিউক বলে টেস্ট ম্যাচ খেলে থাকে।
ইংলিশদের তৈরি এই বল কুকাবুরার চেয়ে বেশি সুইং করে থাকে। তাই বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের শুধু উইন্ডিজদের গতি নিয়ে ভাবলে চলবে, প্রস্তুত হতে হবে সুইং সামলানোর জন্যও।