এই রুবেল আর সেই রুবেলের পার্থক্য

ছবি:

২০১৭ সালে টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের সেরা পেসার ছিলেন রুবেল হোসেন। বিশেষ করে ২০১৭ সালের শুরুতে নিউজিল্যান্ড সফরে ছোট ফরম্যাটে দারুন বোলিং করেছেন তিনি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খুব ভালো না গেলেও দক্ষিণ আফ্রিকায় কঠিন সফরে রুবেল ছিলেন অন্যদের থেকে ব্যতিক্রম।
কিন্তু নতুন বছরে এসে সেই ধারাবাহিক রুবেলকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। শ্রীলঙ্কা সিরিজের পর নিদাহাস ট্রফিতে অপেক্ষাকৃত ভালো বোলিং করলেও ধারবাহিকতা ছিল না। প্রথম স্পেল ভালো হলে দেখা গেছে দ্বিতীয় স্পেলে অচেনা এই ফাস্ট বোলার।
একই চিত্র দেখা গেছে আফগানিস্তান সিরিজে। শুরুতে মিতব্যয়ী বোলিং করলেও ডেথ ওভারে পুরনো রুবেলকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। অথচ বাংলাদেশের একমাত্র স্পেশালিস্ট ডেথ বোলার হিসেবে রুবেলের সুনাম রয়েছে।
রুবেলের বাউন্সার ও ইয়র্কার গুলো আগের সেই নিখুঁত লাইন লেন্থে পড়ছে না। যার সুবিধা নিচ্ছে ব্যাটসম্যানরা। রুবেলের নিজের সামর্থ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি থাকাই পারফর্মেন্স উঠানামার মূল কারন হিসেবে মনে করেন জাতীয় দলের সাবেক কোচ সারওয়ার ইমরান।

ক্রিকবাজের সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, 'ইয়র্কার ঠিক জায়গায় পড়ছে না। এমন লেন্থে পড়ছে যেখানে ব্যাটসম্যানদের জন্য শট খেলা সহজ। এর মূল কারন হবে রুবেলের নিজের সামর্থ্যে সন্দেহ ও স্কিলের অভাব।
যখন ইয়র্কার বল করতে যায়, তখন বোলারদের মনে কোন দোটানা থাকতে পারবে না। সে হয়তো বল করার আগেই বল জায়গায় মত না রাখতে পারলে কি হবে সেই চিন্তা করছিল। এটাই মনে হয় সবচেয়ে বড় কারন।'
রুবেল হোসেন লম্বা দীর্ঘদেহী ফাস্ট বোলার নন, ইয়র্কার ও রিভার্স সুইং হতে হবে রুবেলের মূল হাতিয়ার। ইমরানের দাবী, রুবেল নিজের শক্তির জায়গা থেকে সরে এসে অনেক ভেরিয়েশন নিয়ে চিন্তা করছে। ইমরানের বক্তব্য,
'প্রথমত তার অ্যাকুরেসিতে সমস্যা আছে, বিশেষ করে তার মূল ডেলিভারি গুলোতে (বাউন্সার, ইয়র্কার ও রিভার্স সুইং)। পেসারদের ১৪০ কিমিঃ এর বেশি গতি থাকতে হবে না হয় অনেক ভেরিয়েশন থাকতে হবে।
এখন অনেক বোলার ১৪০ কিমিঃ এর আশেপাশের গতিতে বল করে থাকে। কেউ যদি নতুন কোন ভেরিয়েশন যুক্ত করতে চায় তাহলে সেটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যবহার করার আগে ঘরোয়া ক্রিকেট বা ম্যাচ কন্ডিশনে ব্যবহার করতে হবে।'