জাতীয় লিগে তিন ম্যাচে চার সেঞ্চুরি

জাতীয় লিগে তিন ম্যাচে চার সেঞ্চুরি

জাতীয় লিগের ১৯ তম আসরের প্রথম স্তরে পঞ্চম রাউন্ডের প্রথম দিনে খুলনায় ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছেন জাতীয় দলের এক সময়ের তারকা নাঈম ইসলাম ও সোহরাওয়ার্দী শুভ। এই দুজনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে প্রথম দিন শেষে রংপুর বিভাগের সংগ্রহ ৪ উইকেটের বিনিময়ে ৩২১ রান।

১৪৫ রান করে শুভ আউট হলেও। নাঈম ইসলাম ১২০ রান করে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। ১৮ রানের মাথায় বাংলাদেশের সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ছুঁয়েছেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৭ হাজার রানের মাইলফলক।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা রংপুরকে উদ্বোধনী জুটিতে ৪১ রান এনে দেন সায়মন আহমেদ ও জাহিদ জাভেদ। এরপর ১৪ রানের মধ্যে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারায় রংপুর। তারপর, দলের সংগ্রহ যখন ৩ উইকেট হারিয়ে ৫৫ রান। তখন নাঈম ও শুভ জুটি বাঁধেন।

দুর্দান্ত ব্যাটিং এদুজন দিনের খেলা প্রায় শেষ করে ফেলেছিলেন। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে দিনের শেষ ওভারে। শুভাগত হোমের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি তুলে নেয়া শুভ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের সেরা ১৫১ রানের খুব কাছে গিয়ে আউট হয়েছেন শুভ।

তিনি প্রথম শ্রেণীর ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরিতে আউট হয়েছেন ১৪৫ রানে। ২০৩ বলের ইনিংসে ১৮টি চারের পাশে ছিল দুটি বিশাল ছক্কা। ৭ হাজার ছোঁয়ার দিন ১২০ রানে অপরাজিত আছেন নাঈম। ২১৪ বলের ইনিংসে ১৫ চার ও ২ ছক্কা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নাঈমের এটি ২৩তম সেঞ্চুরি। এবার লিগে যা দ্বিতীয়।

এদিকে, বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে রবিউল ইসলাম রবির দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ৪ উইকেটে ৩০৭ রান তুলে দিন শেষ করেছে খুলনা। শুক্রবার রাজশাহীতে টসজয়ী খুলনাকে দারুণ সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার রবি ও এনামুল হক। উদ্বোধনী জুটিতে তারা ১১০ রান তোলেন।

৪৪ রান করা এনামুলকে, সালমান সাজঘরে ফেরালে এই জুটি ভাঙে। এরপর তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা অমীত মজুমদারকে কোনো রান না করার আগেই সাজঘরে ফিরিয়েছেন সোহাগ গাজী। তৃতীয় উইকেটে রবি ও তুষার ইমরান যোগ করেন ১০০ রান।

অর্ধশতক তুলে ৫১ রান করে তুষার আউট হয়েছেন সালমানের দ্বিতীয় শিকার হয়ে। তারপর, চতুর্থ উইকেটে মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে আরেকটি জুটি গড়ে তোলেন রবি। দুজনে তোলেন ৭২ রান। দুটি করে চার ও ছক্কায় ৩৮ রান করে আউট হন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মিঠুন।

১৮৪ বলে ১৪ টি চারে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন রবি। আউট না হলেও আহত হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন তিনি। ১০৮ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন এই ব্যাটসম্যান। দিনের শেষ ভাগটা দেখে শুনে কাটিয়ে দিয়েছেন জিয়াউর রহমান। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার দিন শেষ করেছেন ৫২ রান নিয়ে।

জাতীয় লিগের আরেক ম্যাচে ঢাকা মেট্রোর বিপক্ষে ৬ উইকেটে ২৪১ রানে প্রথম দিন শেষ করেছে সিলেট।অধিনায়ক ইমতিয়াজ শুরু থেকে একাই টেনে নিয়েছেন দলকে। লম্বা সময় তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি কেউই।

১০৭ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর পঞ্চম উইকেটে রাজিন সালেহকে নিয়ে ইমতিয়াজ দারুণ একটি জুটি গড়েন।১৬৫ বলে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দশম সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ইমতিয়াজ। রাজিন সালেহর সঙ্গে ৯১ রানের এই জুটি শেষ হয় ইমতিয়াজের আউটে।

দলীয় ১৯৮ রানে আউট হন ইমতিয়াজ, সেই সময় তার ব্যাট থেকেই এসেছে ১৭ চারে ১৩২ রান! প্রায় ৩ ঘণ্টা ব্যাট হাতে লড়াই করে রাজিন আউট হয়েছেন ৪২ রান করে। ২৭ রানে এজাজ আহমদ অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন সিলেটের হয়ে।

Posts Carousel

এই মাত্র

সর্বাধিক মন্তব্য

ভিডিও