মাশরাফির ‘আবিষ্কারক’ যিনি…

মাশরাফির ‘আবিষ্কারক’ যিনি…

বাংলাদেশ দলের অন্যতম সফল পেস বোলার হিসেবে ধরা হয় মাশরাফি বিন মর্তুজাকে। এক সময় তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটেই বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। টানা ইনজুরির কারণে সাদা পোষাকের ক্রিকেট থেকে অনেক দিন ধরেই দূরে তিনি। আর চলতি বছরই টি২০ কে বিদায় জানিয়েছেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’।

তবে লাল-সবুজের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে যাচ্ছেন ওয়ানডে ক্রিকেটে। এই মাশরাফির ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ হয়ে ওঠার পেছনে অনেক বড় অবদান আছে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের বর্তমান কিউরেটর জাহিদ রেজা বাবুর। তাকেই ধরা হয় মাশরাফির আবিষ্কারক হিসেবে।

সম্প্রতি প্রিয়.কমের সাথে এক আলাপচারীতায় জাহিদ রেজা বাবু স্মৃতিচারণ করেছেন মাশরাফির সাথে প্রথম পরিচয়ের। তিনি জানিয়েছেন ২০০১ সালে অনূর্ধ্ব ১৭ দলের খুলনা বিভাগের সাথে ঢাকা মেট্রোপলিসের ম্যাচে প্রথম দেখেন মাশরাফিকে।

বাবুর ভাষ্যমতে, ‘২০০১ সালের কথা। অনূর্ধ্ব-১৭ খুলনা বিভাগের সঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিসের ম্যাচ। ভেন্যু ঢাকার আবাহনী মাঠ। খুলনার অফিশিয়ালরা দাওয়াত দিয়েছিল দেখতে যাওয়ার। যথারীতি ম্যাচের দিন গিয়ে দেখি খেলা বন্ধ। ঘটনা কি, খুলনা জানাল তাদের দু’জন প্লেয়ারকে নাকি বাদ দেওয়া হয়েছে। তাকিয়ে দেখি এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে কৌশিক (মাশরাফি বিন মুর্তজা) ও রাসেল (সৈয়দ রাসেল)। দু’জনই প্রায় কেঁদে ফেলবে এমন অবস্থা। রাসেল তো মনে হয় কেঁদেই ফেলেছিল!’

তার কিছুদিন পরেই মাশরাফির দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয়েছিল বাবুকে। মাশরাফির বাবা-মা তাকে লোকাল গার্ডিয়ান হিসেবে রেখে যান। এই ঢাকা শহরে তখন বাবুই ছিলেন একমাত্র মাশরাফির সবচেয়ে কাছের লোক।

এই প্রসঙ্গে বাবু জানিয়েছেন, ‘শেষপর্যন্ত দু’জনই ওই ম্যাচে খেলেছিল। ডেড পিচে কি জোরে বল করছিল! সেই শুরু। কিছুদিন পর বায়তুল মোকাররম গেটের সামনে দাঁড়ানো ওর বাবা-মা আমার কাছে বলেছিল, এই ঢাকা শহরে আপনার কাছে রেখে যাচ্ছি। আপনি ওর লোকাল গার্ডিয়ান।’

বাবুর হাত ধরেই প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে পা রাখেন মাশরাফি। তাছাড়া মাশরাফির সঙ্গী বাঁ-হাতি পেসার রাসেলকে পাঠিয়েছিলেন সেকেন্ড ডিভিশনে। ফার্স্ট ডিভিশন খেলার ওই বছরই বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে সুযোগ পান মাশরাফি। সেটা ২০০১ সালেই। কলকাতা সফরে ২৫ ওভার বল করেছিলেন তরুণ সেই ফাস্ট বোলার। ওই সফরেই ক্যারিয়ারের ইনজুরির বীজ বপন করেছিলেন এই টাইগার পেসার।

বাবু জানিয়েছেন, ’কলকাতায় গিয়ে ২৫ ওভার বল করে কৌশিক। সেটা করা উচিত হয়নি একেবারেই। আমরা এগুলো পরে টের পেয়েছি। সে সময় নিজে বলতে পারছিলাম না দেখে আলম চৌধুরীকে দিয়ে অনুরোধ করিয়েছিলাম সেক্রেটারি আশরাফুল হককে। যেন ছেলেটাকে কিছুদিন বিশ্রাম দেওয়া হয়। কিন্তু আশরাফুল হক কোনভাবেই মানতে চাননি। ততদিনে পিঠে ব্যথা শুরু হয়ে গেছে মাশরাফির।’

মাশরাফি তার শুন্য থেকে শিখরে ওঠার সময়টায় সবসময় পাশে পেয়েছেন বাবুকে। মাশরাফি যখন ধীরে ধীরে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছেন তখন মাশরাফির নিজের দায়িত্ব তার নিজের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছেন বাবু। তখন মাশরাফির সাক্ষাৎকারের সময় পাশে থেকে বলেও দিয়েছেন কি বলতে হবে।

বাবু তখনকার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘ছোট মানুষ মাশরাফি। এমনও হয়েছে, পাশে বসে ইন্টারভিউয়ের সময় বলে দিয়েছি। ওর সব চেক বই প্রথম দু’বছর আমার কাছে ছিল। যখন প্রিমিয়ার লিগে ঢুকল, তখন আমি নিজে থেকে ওকে দিয়ে দুটি একাউন্ট খুলিয়েছি। চেকবইগুলো আমার কাছেই ছিল। যখন ২০০৩ সালের দিকে দেখলাম টাকাপয়সা আসা শুরু করছে তখন আমি নিজে থেকেই ওকে বুঝিয়ে দিলাম। চেকবইগুলো তখন ওর কাছেই রাখতে দিলাম।’

Posts Carousel

এই মাত্র

সর্বাধিক মন্তব্য

ভিডিও