নতুন অ্যাকশনেই বদলে গেছে আরাফাত সানির বোলিং

নতুন অ্যাকশনেই বদলে গেছে আরাফাত সানির বোলিং

অনেক তারকা বোলারই অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের দায়ে নিষিদ্ধ হওয়ার পর পরীক্ষা দিয়ে বৈধতা পেলেও বল হাতে ফির পান না তাদের আগের ধার।

গত বছরই মার্চে বাংলাদেশ দলের দুই তারকা বোলার আরাফাত সানি ও তাসকিনকে অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের দায়ে নিষিদ্ধ করেছিলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

তাসকিন তো নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দিব্বি বোলিং করে যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। কদিন আগেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পেয়েছেন দুর্দান্ত এক হ্যাট-ট্রিক আর অন্য বোলার আরাফাত সানি নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরে নতুন অ্যাকশনে আগের চেয়েও ধারালো।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এখন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি এই বাঁহাতি। সাফল্যের রহস্য অন্য কিছু নয়, ‘নতুন অ্যাকশন।’ বুধবার সংবাদ মাধ্যমকে জানালেন খোদ আরাফাত সানি নিজেই।

বল হাতে আগে টার্ন কম পেলেও এখন দারুণ টার্ন পাচ্ছেন তিনি। নতুন অ্যাকশনে টার্ন ও ড্রিবও বেড়েছে। নতুন অ্যাকশন নিয়ে তাই সন্তুষ্টি তার কণ্ঠে, ‘আগের মতো সবই আছে। এখন দুইটা জিনিস ভালো হচ্ছে। আগের চেয়ে টার্ন বেড়েছে ও বল ড্রিব করছে। যা নতুন অ্যাকশনে পাওয়া।’

এবারের প্রিমিয়ার লিগে আরাফাত সানি খেলছেন প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে। লিগে মাত্র আট ম্যাচ খেলেই বল হাতে নিয়েছেন ২২ উইকেট। লিগে নিজের শুরুর ম্যাচে ৫টি আর সবশেষ ম্যাচে নিয়েছেন ক্যারিয়ার সেরা ৬ উইকেট।

গত বছরের মার্চে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ধর্মশালায় হল্যান্ডের বিপক্ষে সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের দায়ে নিষিদ্ধ হন আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদ।

দীর্ঘ অনুশীলনের পর গত ৮ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনে পরীক্ষা দিয়ে বোলিং অ্যাকশন বৈধতার ছাড়পত্র পান এই দুই টাইগার বোলার। তাসকিন বাংলাদেশ দলে বর্তমান সময়ে দাপিয়ে বেড়ালেও দলে জায়গা হয়নি আরাফাত সানির। তাতেও খুব বেশি হতাশ নন এই বাঁহাতি স্পিনার। সানি বলেন,

‘আমি এক ফোঁটাও হতাশ না। এটা হতেই পারে একটা প্লেয়ারের জন্য। টিম থেকে বের হবে আবার ঢুকবে। সেটা হওয়া স্বাভাবিক। আমি একটা প্রবলেমের জন্য (অবৈধ বোলিং অ্যাকশন) টিম থেকে বের হয়েছি। আমি যদি এখানে পারফর্ম করি, ভালো করে যেতে থাকি, লিগে সর্বোচ্চ উইকেট পাই তাহলে অবশ্যই ফিরতে পারবো। নির্বাচকরাও তখন আমাকে নিয়ে ভাবতে পারবেন।’

বোলিং অ্যাকশনের বৈধতা ফিরে পেতে মিরপুরের একাডেমীর মাঠে অনেক ঘাম ঝড়িয়েছেন সানি। বৈধতা পেয়েই মাঠে নেমেছিলেন জাতীয় লিগ খেলতে।

চারদিনের দুটি ম্যাচ খেলে বোলিং করেছিলেন প্রায় ৮০ ওভার। তারপরও নিজের বোলিংয়কে আরও কার্যকর করতে নতুন অ্যাকশনের সাহায্য নিয়েছেন, সফলও হয়েছেন। এই প্রসঙ্গে সানি জানান,

‘যখন নতুন অ্যাকশনে বল শুরু করি অবশ্যই আমার জন্য একটু কঠিন ছিল। ক্রিকেট যেহেতু খেলতে হবে এটা আমি আগেই মেনে নিয়েছি, আমি ভাগ্যবান যে অ্যাকশন শুধরানোর পর থেকেই জাতীয় লিগে দুইটা ম্যাচ খেলেছি। যেখানে ওভারের কোনো লিমিটেশন ছিল না। এটা খুব কাজে দিয়েছে।’

Posts Carousel

এই মাত্র

সর্বাধিক মন্তব্য

ভিডিও