ওয়েলিংটনে টাইগারদের দাপটের দিনে বৃষ্টির আধিপত্য

ওয়েলিংটনে টাইগারদের দাপটের দিনে বৃষ্টির আধিপত্য

ওয়েলিংটন টেস্টে টসে হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের শুরুটা ভালোই হয়েছিল। টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল ইনিংসের শুরুতে বাউন্ডারির দেখা পান।

কিউইদের দুই ফ্রন্ট লাইন বোলার ট্রেন্ট বোল্ট ও টিম সাউদি অবশ্য সহজে হাল ছাড়ার পাত্র না। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে এসে ইমরুলের শরীর ছুঁয়ে আসা বাউন্সার থেকে উইকেট আদায় করে নেন সাউদি।

থার্ড ম্যান বাউন্ডারিতে লাইনে থাকা এক মাত্র ফিল্ডারের হাতে সহজ ক্যাচ তুলে ফিরে যান এক রান করা ইমরুল। স্কোরবোর্ডে তখন এক উইকেটে ১৬ রান।

সঙ্গী হারালেও তামিম খেলে যান নিজের মতন করে। বেছে নেন ট্রেন্ট বোল্টকেই। পয়েন্ট-গালি ও কাভার অঞ্চল থেকে মিড উইকেটেও বাউন্ডারি খুজে পান তামিম।

আরেকপ্রান্তে মমিনুল ধরে খেলে গেলেও তামিম ঠিকই ওয়ানডে মেজাজে খেলে যান। কিন্তু কলিন ডে গ্র্যান্ডহমের বলে নিউজিল্যান্ডের রিভিউ থেকে রক্ষা পান তামিম।

ইনিংসের ১২তম ওভারের দিকে এসে ওয়েলিংটনের ভারি বাতাসকে সরিয়ে বৃষ্টি বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। দলের স্কোর ৩৯ রানে এক উইকেটে নিয়ে টানা বৃষ্টির পর প্রায় এক ঘণ্টা পর মাঠে ফিরেছে দুই দল।

বিরতির পরও তামিম নিজের স্বাভাবিক খেলা খেলে যান। ড্রাইভ, পুল শটের দারুন প্রদর্শনী দেখিয়ে দলের ১২তম অর্ধশত রানের কোটা পার করেন তামিম।

পরের ওভারে টিম সাউদিকে কাভারে ঠেলে দিয়ে মাত্র ৪৮ বলে ব্যক্তিগত ফিফটি তুলে নেন তামিম। ইনিংস জুড়ে দশটি চার মারেন তিনি।

কিন্তু দ্বিতীয় স্পেলে এসে বল করতে এসে উড়তে থাকা তামিমকে থামান ট্রেন্ট বোল্ট। ১৫তম ওভারে লেগ বিফরের আবেদনে আম্পায়ারের সাড়া না পেয়ে রিভিউর সাহায্য নিলে ৫০ বলে ৫৬ রানের দারুন এক ইনিংসের পর থামতে হয় তামিমকে।

তবে মমিনুল-মাহমুদুল্লাহ দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে দলের স্কোর শত পার করেন। শুরুতে দেখে খেলা মমিনুল উইকেটে থিতু হয়ে নিজের স্বাভাবিক শটের দেখা পান। ফিফটি রান থেকে মাত্র দুই রান দূরে থাকা অবস্থায় আবারো বৃষ্টি বাঁধা দেয়।

২৯ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় দুই উইকেটে ১১৯ রান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এখনো ওয়েলিংটনে বৃষ্টির প্রকট এখনো থামে নি। স্থানীয় সময় বেলা তিনটায় চা পান বিরতি ঘোষণা করার কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি থামলেও আবারো বৃষ্টি হানা দেয় মাঠে।

ক্রিজে ফিরেই নিজেদের সহজাত খেলা খেলতে থাকেন দুই টাইগার ব্যাটসম্যান। কিউই পেসারদের বাজে বলের উপযুক্ত জবাব দিয়ে ভালো বলের সম্মান করে যান মমিনুল ও রিয়াদ।

ইনিংসের ৩২তম ওভারে ওয়েগনারের বলে থার্ড ম্যান পজিশনে চার মেরে ক্যারিয়ারের ৭৯ বলে ১১তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মমিনুল। রিয়াদ ও মমিনুলের জুটি কিউই অধিনায়ক কপালে চিন্তার ভাজ ফেলছিল।

উইকেটের আশায় কয়েকদফা ট্যাকটিক পরিবর্তন করেও ব্যর্থ হয় স্বাগতিকরা। তবে ৩৯তম ওভারে ওয়েগনারের সুইং মেশানো বলে কাট করতে গিয়ে ২৬ রানের ইনিংস খেলে ফিরে যান রিয়াদ। দলের স্কোর তখন ১৪৬ রান তিন উইকেটে।

ক্রিজে আসা সাকিব আল হাসানের পুল শটে বাংলাদেশের স্কোর ১৫০ পার করে। একই ওভারে স্কয়ার লেগে সাকিবের সহজ ক্যাচ ছাড়েন মিচেল সেন্টনার। ট্রেন্ট বোল্টের করা ৪১তম ওভারের দুই বল পরে আলো স্বল্পতার কারনে খেলা বন্ধ হয়।

পরবর্তীতে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় আর খেলা মাঠে গড়ায়নি। যার ফলে ম্যাচের দ্বিতীয় দিন নির্ধারিত সময়ের ৩০মিনিট আগে খেলা শুরু হবে।

দিন শেষে টাইগারদের সংগ্রহ ৪০.২ ওভারে ২ উইকেটে ১৫৪ রান। মমিনুল হক ৬৪ এবং সাকিব আল হাসান ৫ রানে অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টিম সাউদি, ট্রেন্ট বোল্ট এবং নিল ওয়েগনার একটি করে উইকেট শিকার করেছেন।

Posts Carousel

এই মাত্র

সর্বাধিক মন্তব্য

ভিডিও

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.